জলশূন্য দুর্গাপুর ব্যারেজ, প্রভাব পড়তে পারে মেজিয়া তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের উতপাদনে - The News Lion

জলশূন্য দুর্গাপুর ব্যারেজ, প্রভাব পড়তে পারে মেজিয়া তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের উতপাদনে




দি নিউজ লায়ন ;    লক গেট ভেঙে যাওয়ায় দুর্গাপুর ব্যারেজ এখন প্রায় জলশূন্য।  আর এর বড়সড় প্রভাব এবার পড়তে চলেছে পুর্ব ভারতের বৃহত্তম তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র মেজিয়া তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রে। ইতিমধ্যেই ওই তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রে জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব রিজার্ভারে যে জল মজুত  রয়েছে তাতে আর আগামী দুদিন উতপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। তারপরও জল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিতে পারে রাজ্যের বিদ্যুত সরবরাহ থেকে শুরু করে ইসিএল,  রেল সহ বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে। 


মেজিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দৈনিক ২৩৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। উৎপাদিত বিদ্যুতের একাংশ গ্রিডের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থাকে। বাকি অংশ ব্যবহার করে রেল, ইসিএল, বিসিসিএল সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কল কারখানা।  ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানী করা হয় বাংলাদেশে।  


 এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল কয়লা ও জল। এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার জন্য  দৈনিক দেড় লক্ষ কিউবিক মিটার জলের প্রয়োজন হয়। এই জলের সবটাই আসে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে।


 আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব  দুটি রিজার্ভার রয়েছে।  এই রিজার্ভারে প্রায় পনেরো লক্ষ কিউবিক মিটার জল মজুত রাখা হয়।  গতকাল দুর্গাপুর ব্যারেজে লক গেট ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই মেজিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।


 তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব দুটি রিজার্ভারে আপাতত যে জল মজুত আছে তাতে আগামী দুদিন উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছে মেজিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দুদিনের মধ্যে জল সরবরাহ শুরু না হলে সেক্ষেত্রে মেজিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে সমস্যা তৈরী হবে রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহ সহ অন্যান্য শিল্প ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহে।


 মেজিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ( প্রশাসন)  প্রবীর চাঁদ বলেন, রাজ্যের সেচ দফতরের সাথে আমাদের কথা হয়েছে।  সেচ দফতর আগামী দুদিনের মধ্যে ব্যারেজের লক গেট মেরামত করে দেওয়ার আস্বাস দিয়েছে।  তেমনটা হলে পুনরায় জল সরবরাহ চালু হয়ে যাবে।  অন্যথা আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ক্রমশ কমবে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.